শীতের দুপুরে ছোট্ট আউটিং-এর প্ল্যান সর্টেড তো?

বাঙালির কাছে শীতকাল মানেই কী বলুন তো? ঘোরাঘুরি আর পিকনিক। তবে বাজেট আর সময় কম থাকলে ঘুরতে যাবার আগে কপালে একটু-আধটু ভাঁজ পরে বৈকি। কিন্তু কথায় আছে না, "ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়"। এই ঘুরতে যাবার বিষয়টাও কিন্তু ঠিক একইরকম। অল্প স্বল্প টাকা আর ঘুরতে যাবার বিস্তর ইচ্ছে থাকলেই হুগলী জেলার মধ্যে একদিনেই ঘুরে আসতে পারবেন এই তিন-তিনটি জায়গা।
প্রথমেই হাওড়া স্টেশনের ১/৩ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে হাওড়া-বর্ধমান মেন লোকাল ধরে চলে আসুন মগরা স্টেশনে। তারপর অটো বা টোটো করে ১০ টাকা দিয়ে একেবারে নামুন ডাকাতি কালীবাড়ির সামনে। শোনা যায় রঘু ডাকাত নিশীথ রাতে ডাকাতি করতে যাবার আগে এই মন্দিরেই নরবলি দিতেন। পরবর্তীকালে মন্দির চাতালে রামপ্রসাদের গান শুনে বিভোর হয়ে এই প্রথা বন্ধ করে দেন তিনি। লোকমুখে শোনা যায় প্রতি দীপান্বিতা কালীপূজোর রাতে মা কালী স্বয়ং এই মন্দির সংলগ্ন পুকুরে এসে চুল ভিজিয়ে স্নান করেন। এই মন্দিরের মা কালী কাউকে খালি হাতে ফেরান না।
মায়ের দর্শন শেষে এবার রওনা দিন ত্রিবেণী ঘাটের উদ্দেশ্যে। বেহুলা-লক্ষ্মীন্দরের কাহিনি তো সকলের জানা। নিজের স্বামীকে ভেলায় ভাসিয়ে নিয়ে যাবার সময় যে স্বর্ণ পাটায় বেহুলা দেবতাদের কাপড় কেচেছিলেন, সেই পাটা আজও রয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন স্বচক্ষে আসেন এই পুণ্যস্থল দেখতে। শোনা যায়, এই স্থানে এসে গঙ্গায় স্নান করলে মানুষের শরীর ও মনের সকল কলুষতা দূর হয়। এই গঙ্গাতীরেই রয়েছে মহাশ্মশান। যেখানে নির্বাণ লাভ করেন এলাকার বহু মানুষ।
এবার লাস্ট ডেস্টিনেশন হিসেবে বেছে নিন গাজী দরগার দরবারকে। একটু অফবিট বটে কিন্তু সেখানকার প্রতিটা দেওয়ালে লেগে আছে ইতিহাসের ছোঁয়া। সমাধিস্থলের স্থাপত্য ও ভাস্কর্য আপনার মন কাড়বেই। ইতিহাসের পাতা ওল্টালে জানা যায় বাংলায় ইসলামিক স্থাপত্যের সর্বপ্রথম নিদর্শন হল এই দরগা। জাফর খাঁ গাজীর এই সমাধিস্থলকে ঘিরে নানান সময়ে দানা বেঁধেছে নানান রহস্য। সেসব কথা না হয় অন্য একদিন হবে। তাহলে, শীতের দুপুরে ছোট্ট আউটিং-এর প্ল্যান সর্টেড তো?